Breaking News
Home / খেলাধুলা / কম্পিউটার গেইম ও শিশু কিশোর

কম্পিউটার গেইম ও শিশু কিশোর

মাহিদুল ইসলাম (১৫): খেলাধুলা মানেই কি বিনোধন ? হ্যা; খেলা ধুলা মানেই বিনোধন তবে সব ক্ষেত্রে যে বিনোধন তা নয় । অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো নয় । ঠিক এই কথাটি খেলাধুলার বেলায় একই ভূমিকা পালন করে। প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে খেলাধুলার সিস্টেমটাও পাল্টে যাচ্ছে । সব কিছুতেই অধুনিকতার ছুঁয়া । এই আধুনিকতা কি শুধু আমাদের উপকারই করে যাচ্ছে নাকি মাঝে মধ্যে ক্ষতিও করছে সেই দিকে দৃষ্টি দেওয়ার সময় কোথায় ।

এই তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লবের সাথে  যে যন্ত্রটির ভূমিকা বেশি , সেটা আর কোন যন্ত্র নয় , সেটা  হচ্ছে কম্পিউটার । বর্তমানে বিনোধনের প্রধান মাধ্যম খেলাধুলাটাও মিশে আছে এই কম্পিউটারে । কম্পিউটার গেইম । শব্দটি শুনে অনেকেই চমকে গেছে আবার অনেকের কাছে মনে হয়েছে এটা আবার নতুন কি ? আবার অনেকের প্রিয় শব্দ “ কম্পিউটার গেইম “ দেখে উৎসাহ পেল ।

অন্যান্য যে কোন গেইমের মতই বিনোধন দিতে পারে এই গেইম । এই কম্পিউটার গেইম খেলতে বাহিরে যেতে হয় না । যেতে হয়না মাঠে । ঘড়ে বসে একা একাই খেলা যায় এই গেইম ।

কম্পিউটার গেইম সাধারনত দুই প্রকার হয়ে থাকে । এক ধরনের গেইম রয়েছে যেখানে কোন একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে খেলোয়াড়ের । যেমন – কোন রাজাকে মেরে রাজ্য দখল দেওয়া , বিভিন্ন প্রকার রেইস যেখানে নির্দিষ্ট একটি যায়গায় সবার আগে বা সময়ের আগে পৌছাঁতে হয় । যদি এই গেইম গুলো খুব সহজেই খেলা যায় বা সর্বোচ্চ  লেভেলে পৌছাঁনো যায় তাহলে সেগুলোর প্রতি আসিক্তি জন্ম নেয় না । তবে এই গেইম গুলো এমন ভাবে তৈরি করা হয়ে থাকে একের পর এক কঠিন লেভেল আসতে থাকে আর আগ্রহটা বাড়তে থাকে । আর সেই আগ্রহ থেকেই আসক্তি ।

আরেক ধরনের গেইম রয়েছে । যেগুলো অনেকে একত্রে মিলে খেলা যায় । এই গেইমগুলোকেই বলা হয় এমএমও গেইম । এই গেইম গুলোর প্রতি মানুষ বেশি আসক্ত হয়ে পরে । বিশেষ করে শিশু কিশোর বয়সি ছেলে মেয়েরা । এই গেইম গুলোতে আসক্তি জন্ম নেওয়ার অন্যতম কারন হচ্ছে এই গেইম গুলোর শেষ নেই।

এই আসক্তির বয়াবহতা অনেক । এই কম্পিউটার গেইম খেলার টাকা যোগার করতে নিজের তিন সন্তানকে বিক্রির ঘটনা আমরা নবম দশম শ্রেনির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ে পড়েছি ।

মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যেই এই গেইম গুলো এমন ভাবে তৈরি করা হয় যাতে করে মানুষকে বেশি সময় ধরে এই গেইমের মাঝে আটকে রাখা যায়। এগুলোতে এমন সব আকর্ষনীয় ফিচার রাখা হয় যা মানুষকে উৎসাহিত করে গেমটি খেলতে ।

আসক্ত হওয়ার ফলে সারাক্ষন ভাবতে থাকে কীভাবে সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জন করা যায় , কেমন করে তার প্রতিপক্ষকে হারনো যায় । আর প্রতিপক্ষকে হারানোর জন্যই বেশি সময় সে গেইমটি খেলে । এতে করে প্রতিদিনের পড়াশোনা সহ রোজকার কাজে ব্যাঘাত ঘটে । এছাড়াও সে শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হয় ।

যেহেতু গেইটি কম্পিউটারে তাই কম্পিউটার এর মাউস আর কি-বোর্ডর ব্যবহার বেশি করতে হয় । এতে করে কর্পাল টানেল সিন্ড্রোম নামের এক প্রকারের কব্জির প্রদাহজনিত রোগ হতে পারে । রোগের প্রথম দিকে কব্জির ব্যায়াম দ্বারা এ রোগের উপশম হয় । তবে মারাত্মক আকার ধারন করলে অস্ত্রোপচারও  করতে হয় । এছাড়াও দীর্ঘ  সময় ধরে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে খেলার জন্য চোখ ও মস্তিষ্কের ওপর চাপ পড়ে মাইগ্রেনের ব্যথা হয় । গেইমের ঘটনাগুলো খেলোয়াড়ের মস্তিষ্ককে তাড়িত করে । ফলে অনিদ্রা, ঘুমের সময় হাত-পায়ের ঝাঁকুনি, হাঁটা বা কথা বলা এমনকি দুঃস্বপ্ন দেখাসহ বেশ কিছু ঘুম সংক্রান্ত রোগ হতে পারে ।

তাই এই কম্পিউটার গেইমটাকে আমরা শুধু গেইম হিসেবেই নেব । এটা কোন অবস্থাতেই আসক্ত হওয়া যাবে না ।

সাধারনত অভিবাবক সচেতন না হওয়ার ফলেই এমনটি ঘটে থাকে । তারা ভাবে এই কম্পিউটার এমন একটি আধুনিক যন্ত্র , এটা দিয়ে যাই করা হোক না কেন সেটাই ভালো কোন কিছু হবে । কিন্তু তাদের এই ধারনাটি একেবারেই ভূল । কম্পিউটার এমন একটি যন্ত্র , কতটুকু ভালো কিংবা খারাপ করবে সেটা ব্যবহারকারীর ব্যবহার অনুযায়ী নিশ্চিত হওয়া যায় ।

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

xu hướng thời trangPhunuso.vnshop giày nữgiày lười nữgiày thể thao nữthời trang f5Responsive WordPress Themenha cap 4 nong thongiay cao gotgiay nu 2015mau biet thu deptoc dephouse beautifulgiay the thao nugiay luoi nutạp chí phụ nữhardware resourcesshop giày lườithời trang nam hàn quốcgiày hàn quốcgiày nam 2015shop giày onlineáo sơ mi hàn quốcshop thời trang nam nữdiễn đàn người tiêu dùngdiễn đàn thời tranggiày thể thao nữ hcmphụ kiện thời trang giá rẻ